হিংসারোগ : তিলে তিলে হিংসুককে ধ্বংস করে!

▌হিংসারোগ : তিলে তিলে হিংসুককে ধ্বংস করে!


.

হিংসা কাকে বলে এ বিষয়টি অনেকেই হয়ত জানেন না যারফলে হিংসা ও ঈর্ষাকে এক করে ফেলেন। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, কারো উন্নতি কিংবা কল্যাণ দেখে অন্তরে জ্বালা অনুভব করা এবং তার ক্ষতির আপ্রাণ চেষ্টা করার নামই হিংসা।

হিংসা এমন এক ব্যাধি যা শুধু মনের উপরই নয় বরং দেহের উপরও ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। কথিত আছে যে, হিংসুক লোকের কোন বিশ্রাম (ঘুম) নেই এবং সে বন্ধুর লেবাসে একজন শক্র! হিংসারোগ সম্পর্কে আরো বলা হয় যে, এটা অন্যের ক্ষতির পূর্বে হিংসুককেই হত্যা করে অর্থাৎ তাকে তিলে তিলে ধ্বংস করে দেয়। ইসলামের দৃষ্টিতে এটি মারাত্মক গুনাহের কাজ।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ’লা বলেন,
ﺃَﻡْ ﻳَﺤْﺴُﺪُﻭﻥَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱَ ﻋَﻠَﻰٰ ﻣَﺎ ﺁﺗَﺎﻫُﻢُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻣِﻦْ ﻓَﻀْﻠِﻪِ
“নাকি আল্লাহ দয়া করে মানুষদেরকে যা দান করেছেন সে বিষয়ে এরা কি তাদেরকে হিংসা করে।”
—– [ সূরাহ নিসা: ৫৪ ]
.

প্রিয়নবী মুহাম্মদূর রাসূলুল্লাহ ﷺ- বলেছেন,
حدثنا يحيى بن يحيى، قال قرأت على مالك عن أبي الزناد، عن الأعرج، عن أبي هريرة، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ‏ “‏ إياكم والظن فإن الظن أكذب الحديث ولا تحسسوا ولا تجسسوا ولا تنافسوا ولا تحاسدوا ولا تباغضوا ولا تدابروا وكونوا عباد الله إخوانا ‏”‏ ‏.‏
“তোমরা খারাপ ধারণা করা থেকে বেঁচে থাকো। কেননা, খারাপ ধারণা প্রসূত বিষয় সর্বাপেক্ষা মিথ্যা। আর তোমরা ছিদ্রান্বেষণ করো না, গোয়েন্দাগিরি করো না, সুপ্তদোষ অনুসন্ধান করো না, তোমরা পরস্পর লিপ্সা করো না, পরস্পর পরস্পরের প্রতি শত্রুতা করো না, হিংসা করো না; একে অন্যের পিছনে লেগে থেকো না বরং তোমরা সবাই আল্লাহর বান্দা হিসেবে ভাই ভাই হয়ে যাও। —– [ স্বহীহ মুসলিম : ৬৪৩০ ]

অন্যত্র বলেন, “কোন বান্দার অন্তরে ঈমান ও হিংসা একত্রিত হতে পারে না।” — [ নাসাঈ : ৩১০৯ ]
.
মু’আয়িয়্যাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, ” সকল মানুষকে আমি খুশী করতে সক্ষম, কেবল হিংসুক ব্যতীত। কেননা, সে অন্যের নিয়ামত দূর না হওয়া পর্যন্ত খুশী হয় না।” — [ তারিখু দিমাস্ক : ৫৯/২০০ ]
.

একথা সর্বজনবিদিত যে, হিংসা হলো চোখের ছানির মতো, হিংসা যতো বাড়ে ততোই বিবেকের চোখ অন্ধ হতে থাকে! তাইতো হিংসুটে মানুষদের অনিষ্ট ব্যাপারে মহিমান্বিত ঈমামগন সর্তকতা আরোপ করেছেন।

ইমাম ইবনুল ক্বাইয়িম [ রাহিমাহুল্লাহ ] বলেন,
সমস্ত পাপের উৎস হল তিনটি! যথা :
১. অহংকার: এটা ইবলিসের পতন ঘটিয়েছিলো।
২. লোভ: এটা জান্নাত থেকে আদম (আলাইহিস সালাম )-কে বের করে দিয়েছিলো।
৩. হিংসা: এটা আদম (আলাইহিস সালাম )-এর এক সন্তানের বিরুদ্ধে অপর সন্তানকে প্রতিশোধ পরায়ণ করে তুলেছিলো!

যে ব্যক্তি উক্ত তিনটি বস্তুত অনিষ্ট হতে বেঁচে থাকতে পারবে, সে যাবতীয় অনিষ্ট হতে বাঁচতে পারবে। কেননা কুফরীর মূল উৎস হলো, অহংকার,
পাপাচারের মূল উৎস হলো, লোভ, আর
বিদ্রোহ ও সীমালঙ্ঘনের মূল উৎস হলো, হিংসা।
—- [আল ফাওয়াইদ, পৃষ্ঠা : ৫৮ ]

ইমাম হাসান আল বাসরী [ রাহিমাহুল্লাহ ] বলেন,
“হিংসুকের চেয়ে বড় কোন যালিমকে আমি দেখিনি,
যে নিজেই মাযলূমের মতো (অত্যাচারিত)। কেননা সে বেঁচে থাকে, অথচ দুঃখ তার অবশ্যম্ভাবী এবং দুশ্চিন্তা তার অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী।”
— [ইবনু আব্দি রাব্বিহি, আল-ইক্বদুল ফারিদ, ২/২৭০]

ইমাম আবু হাতেম দারেমী [ রাহিমাহুল্লাহ ] বলেন,
“জ্ঞানীর উপর ওয়াজিব হলো, সর্বাবস্থায় সে হিংসা থেকে দূরে থাকবে। কেননা, হিংসার সবচেয়ে নীচু স্তর হলো, তাক্বদীরের উপর সন্তুষ্টি পরিত্যাগ করা এবং আল্লাহ স্বীয় বান্দার জন্য যা নির্ধারণ করেছেন তার বিপরীত কামনা করা।”
— [আবু হাতেম দারেমী, রওদাতুল উক্বালা, পৃষ্ঠা : ১৩৪]

পরিশেষে, জ্ঞানীদের জন্য চিন্তার খোরাক স্বরুপ ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন রাহিমাহুল্লাহ-র একটি তৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য দিয়েই ইতি টানছি। তিনি [ রাহিমাহুল্লাহ ] বলেন,
আমি কোনদিন কোনো বিষয়েই কাউকে হিংসা করিনি। যদি কোনো মানুষ জাহান্নামের পথে এগিয়ে চলে, আমি কেবল দুনিয়াবী কিছু বিষয় নিয়ে কীভাবে তাকে হিংসা করতে পারি যখন তার শেষ ঠিকানা জাহান্নামের দিকে!? আর কেউ যদি জান্নাতের পথে এগিয়ে চলে, একজন জান্নাতী মানুষের ব্যাপারে আমি কীভাবে হিংসা পোষণ করতে পারি যখন স্বয়ং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা নিজেই তার উপরে খুশি!?
—- [আল মুজাসালাহ ওয়া জাওয়াহির আল-‘ইলম :২৯৩১]
.

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ’লা ‘আমাদের হৃদয় গুলোকে হিংসা বিদ্বেষ, রিয়া, অহংকার, গিবত, অপবাদ থেকে পবিত্র রাখুন। আমাদেরকে সালাফী মানহাজে অটল রাখুন এবং এর উপরই আমাদের মৃত্যু দিন। [ আ-মীন ]
.

⦁ সংকলন ও সূত্র :
আপনাদের শুভাকাঙ্ক্ষী,
আখতার বিন আমীর।

www.facebook.com/ha.rabiulislam/posts/792426251171655

Updated: November 4, 2019 — 11:25 am

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *