টাকার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি!

জীবনের জন্য অর্থের প্রয়োজন অনস্বীকার্য। টাকা ছাড়া কি আমাদের চলে? কিন্তু যে জীবনের জন্য টাকার এত প্রয়োজন তা যদি হয় টাকায় উৎসর্গীত তো কেমন হয়? জীবন জীবিকার নানা প্রয়োজনেই আমাদের সকল চিন্তা নিবিষ্ট থাকে। চাকুরি কিংবা ব্যবসায়; মানসিক বা কায়িক শ্রম, যেকোন ভাবে আমাদের চাই জীবন চালানোর উপকরণ ‘টাকা’। নইলে যে আর চলে না।

কারো কারো কাছে তো আবার টাকাই জীবন; টাকাই মরণ। কেননা টাকার অভাবে ক্ষুধার্ত বাচ্চাটার প্রায় অসাড় দেহ পার্কের পাশে পড়ে থাকে, মমতাময়ী মা বেচে দেয় তার কলিজার টুকরো আদরের ধন একমাত্র সন্তানকে। বাঁচার তাগিদে কত মেয়ে তার অমূল্য স্বতীত্ব আহত করে। ছোট্র শিশুর হাতে বইয়ের পাঁজার পরিবর্তে ইটের পাঁজা, আর মাঘের বাঘডাকা শীতে ঠকঠক করে কাঁপার পরিবর্তে খালি গায়ে ঢালাই কারখানায় ঘর্মাক্ত হয়।

.

দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে মানুষের হরেক রকমের আচরণ প্রকাশ পায়। ঐ কাঠুরিয়ার দিকেই তাকিয়ে দেখুন না, যার রুটিটা উড়ন্ত একটি কাক ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। সারাদিন কাকের পিছনে ছোটাছুটি করে অবশেষে যখন কাকটা নদীর ওপারে চলে গেল তখন বেচারা নিরুপায় হয়ে বলল ” রুটিটা আল্লাহর রাস্তায় দান করে দিলাম।” যেহেতু ‘দান” করা ব্যতিত এখানে অন্যকোন ‘অপশন’ নেই, তাই কথিত দানের (!) মাধ্যমেই হয়ত অপ্রাপ্তির “সুখ” খুজে বেড়াচ্ছেন।

‘যা হয়েছে ভালোর জন্যই হয়েছে” যাদের পিঠ দেয়ালে লেগে যায় তারাই কেবল এ বচনগুলো শান্তনাস্বরুপ আপনার কানে বাজায়, আদতে নিজেরাও কিন্তু তাতে বিশ্বাসী নয়! কেউ কি আপনাকে কখনো বলেছে যে, জীবনে টাকাই সবকিছু না, টাকা দিয়ে সুখ কিনা যায় না হেনতেন ইত্যাদি (?) এমন কিছু আসলে শুনে থাকলেও এর কোন সত্যতা আপনি বাস্তব জীবনে খুঁজে পাবেন না। এইটাও দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মতই বাক্যালাপ।

বাস্তবতা বিবর্জিত কিছু লোক আছে যারা চিন্তা করে ভালবাসা আর টাকা সম্পুর্ন বিপরীত। আসলেই কি তাই? মাত্র এক মাসের জন্য একটা পরীক্ষা করে দেখেন, বুঝে যাবেন যে ভালবাসা আর টাকার মধ্যে সম্পর্ক আছে কিনা। কয়েক মাসের জন্য সংসারে টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিন, দেখবেন কি সব উদ্ভট অভিযোগের যাঁতাকলে পৃষ্ট হতে হয় আপনাকে। অতীতের মধুময় ভালবাসা আর নি:স্বার্থ প্রেম তখন জানালা দিয়ে পালাবে। নিজ স্ত্রীর উপরই প্রয়োগ করে দেখুন না, যতদিন পর্যন্ত স্ত্রী বুঝবে যে, আপনাকে দিয়ে ভবিষ্যতে কিছু হবে, সে তত দিনই আপনার সাথে থাকবে! যেদিন বুঝবে যে আপনার জীবনে ভাল কিছু হচ্ছে না বা হবেনা, অথবা আপনি অক্ষম
সেই দিনই…. টা টা…. বাই বাই…. !!!
সবাই না হলেও অধিকাংশ নারীর স্বভাব কিন্তু এমনই।
.

একটা জিনিস মিলিয়ে দেখবেন, আপনার ক্লাসের সবচেয়ে গর্দভ বা লাস্টের সারিতে বসা ছেলেটি সবচেয়ে সুন্দরি, স্মার্ট বউ নিয়ে ঘুরতেছে। কারণ, সে এখন খুব ভাল পজিশনে, ভাল জায়গায় জব করছে। এই সমাজ তাকে এখন খুব মুল্যায়ন করে, সে এখন জাতির হোমড়াচোমড়াদের একজন। অথচ তার চাইতে হাজারটা ভাল “গুণ” আপনার মাঝে থাকার পরেও আপনি এ সমাজে অবহেলিত। কারণ, আপনি তৃতীয়শ্রেনীর সামান্য ১০ হাজার টাকা দামের কর্মচারী।
পার্থক্য কোথায়, বুঝতে পারছেন নিশ্চয়ই!?
.

মানুষ বলে যে, যারা এখনও বিয়ে করেন নি তারাই নাকি সবচেয়ে সুখী” এটা আসলে তারাই বুঝে যারা বিবাহিত। আপনি হয়ত বুঝবেন বিয়ের পরে, আপনিও হয়ত তখন একই কথা বলবেন! কিন্তু ভাই আপনি বিয়ে করবেন কেমনে (?) এখন যদি আপনার ব্যাচেলর জীবনে মনে হয়ে থাকে, “বিয়েই হয়ত আমার অন্তিম সুখ” সেজন্যও আপনার দরকার টাকা! জীবনের কদমে কদমে টাকা আপনাকে চেনাবে যে,
সে আসলে কি জিনিস! আপনি এক পা ও ফেলতে পারবেন না টাকা ছাড়া! ভেবে দেখেন!
.

যারা একটা নির্দিষ্ট বয়স পার করে এসেছেন (২৫+) তারা নিশ্চয়ই টাকার গুরুত্ব বুঝতে পারেন বা পেরেছেন। এখন আপনি ১০ হাজার টাকার চাকুরী করলেও নিশ্চয়ই টাকার মর্ম খুব ভাল ই বুঝেন।
ছোট বেলায় পড়েছিলাম। টাকা আর চাহিদা আনুপাতিক হারে বাড়ে! জীবনে আপনার অধিকাংশ চাহিদা অথবা সপ্নগুলো স্থবির হয়ে যাবে একমাত্র টাকার অভাবে। এটা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে হতে পারে! এই মুহুর্তের যদি রাস্তায় পড়ে মারা যান,
কাফনের কাপড় কেনার জন্যেও টাকার দরকার।
ইহাই চিরন্তন সত্য!
.

টাকাতেই সর্বসুখ (!) জ্ঞানীরা তো দুরের কথা, এটা মুর্খরাও বিলিভ করেনা। তবে দুনিয়াবী অস্থায়ী সুখের উপকরণ গুলোর মধ্যে “টাকা” একটা বড় ও অন্যতম উপকরণ তা অস্বীকার করার উপায় নেই।
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬

Updated: October 30, 2019 — 7:27 am

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *